শনিবার, ২৭ Jun ২০২৬, ০৯:১৯ অপরাহ্ন
বর্ধমান আমদানি-ব্যয় বাংলাদেশের তেজি অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক বিশ্বমন্দা অনেক দেশের অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিলেও বলতে গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়েনি। তবে করোনা মহামারী-পরবর্তী ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও ধাক্কা খেয়েছে। বর্ধমান আমদানি-ব্যয় এবং আমদানি-ব্যয়ের আড়ালে অর্থ পাচারের অনুমিত বিষয়টি এর কারণ বলে খতিয়ে দেখা হচ্ছে না। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা এমনটাই মনে করছেন।
দেশি-বিদেশি বিশ্লেষকরা বলছেন, আমদানির পুরোটা যথাযথ নয়। ভুয়া আমদানিও আছে। আন্ডার ইনভয়েসিং ও ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকিং চ্যানেলে বিদেশে টাকা পাচার হয়ে থাকতে পারে। আমদানি ব্যয়ে কড়া নজর না রাখলে ভুয়া আমদানি ঘটতেই থাকবে। তাতে দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হয়ে যাবে। এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া দরকার।
গত অর্থবছরের (২০২১-২২) মে পর্যন্ত ১১ মাসে দেশের আমদানি-ব্যয় ছিল ৭ হাজার ৫৪০ কোটি ডলার। একই সময়ে রপ্তানি-আয় ছিল রেকর্ড ৪ হাজার ৪৫৮ কোটি ডলার। ১১ মাসে রপ্তানি-ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৮২ কোটি ডলার।
ডলার সংকটে ভুগতে থাকা দেশের ব্যাংকগুলোর আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার ওপর সম্প্রতি কড়াকড়ি আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১৮ জুলাই পাঁচ প্রতিষ্ঠানের প্রায় সাড়ে ৪ কোটি ডলারের বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৫০ কোটি টাকার ঋণপত্র আটকে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে ব্যাংকগুলোকে ৫০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের ঋণপত্র খোলার বিষয়ে তথ্য ২৪ ঘণ্টা আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। বাংলাদেশে এর আগে ঋণপত্র আটকে দেওয়ার ঘটনার কথা শোনা যায়নি।